30/09/2024
কথা ছিল এরশাদ শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে এবং সকলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। এরশাদ তাই করলো কিন্তু চারিদিকে হইচই উঠলো টাকা পাচার, এরশাদের বউ প্রসঙ্গ, লুঠপাট, চরিত্রহনন, জিয়াউদ্দিন বাবলু পালাইছে, অপরিকল্পিত নগরায়ন, রাস্তার সোডিয়াম লাইট পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। শেষমেষ এরশাদকে জেলে বন্দি করা হলো। সোজা কথা জাতীয় পার্টিকে ঠিক মত রাস্তায় দাঁড়াতেও দেয়নি। তবু ঐ নির্বাচনে এরশাদ জেলখানা থেকে পাঁচটি আসনে দাঁড়িয়ে ওই পাঁচটি আসনই পেয়েছিল। দেশের মানুষ স্বৈরাচারীর পতন চেয়েছিল তা হয়েছে। যাক সেই কথা, এবার আসি বিএনপিকে নিয়ে যা ঘটেছিল। নৌকার বৈঠা, লাঠি সোটা নিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে সব দল মিলে। আবার গঠিত হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার। বিএনপি ক্ষমতায় গেল। শুরু হল হাওয়া ভবনের ইতিহাস, গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ব্যবসা, কোকূর জাহাজ, সৌদি আরব সফরে খালেদা জিয়ার ২৭ টি কালো ব্যাগ, খাম্বাতারেক ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার গঠিত হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আ'লীগ ক্ষমতায় আসল। উন্নয়ন হয়েছে, চুরি হয়েছে, স্বেচ্ছাচারিতা হয়েছে। জঘন্য ঘটনা হয়েছে জনগণ ভোট দিতে না পারা। আবার.........
একই ঘটনা ২৪ সালের জুলাই থেকে ৫ অক্টোবর এসে পুনরাবৃত্তি ঘটে গেল। তবে এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন অর্থ্যাৎ তত্ত্ববধায়ক সরকার নয় গঠিত হলো অন্তবর্তীকালীন সরকার। কেউ যদি পারেন আমাকে একটু বুঝিয়ে দেবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং অন্তবর্তীকালীন সরকারের মধ্যে পার্থক্যটা কি?
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছিল দলমত নির্বিশেষে সবার গ্ৰহণযোগ্য নিরপেক্ষ কিছু সম্মানিত নাগরিক নিয়ে। আর অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে কেমন যেন মনে হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা এক প্রকার জোর করে চাপিয়ে দেওয়া কিছু মানুষজনকে এবং সাথে নিজেরাও ক্ষমতায় ভাগ বসালো।
এতে আমার কিছু যায় আসে না। ধরে নিলাম ১ কোটি বা ১.৫ কোটি ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের গার্ডিয়ান একত্রিত হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছে।
একটু ভেবে দেখুন, বিএনপি ৩০০ আসনে যদি প্রার্থী দেওয়া হয়। অংকটা হবে নিম্নরূপ। আসন ৩০০ × ৮০ হাজার ভোট(গড়ে) = ২.৪ কোটি । জামায়াত-শিবির, আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য কে বাদ দিলাম। এ সরকার জনগণের সরকার নাকি শুধু ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের সরকার। অর্থাৎ ১বা ১.৫ কোটি ভোটারদের সরকার।
নোবেল লরিয়েট প্রফেসর ইউনুস স্যার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণ এবং জাতীয় সংঘের ভাষণ সবকিছু মিলিয়ে একজন বিচক্ষণ ও বুদ্ধিদীপ্ত মানুষ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু জনগণের চাহিদা কি তার জন্য জনগণ কে অপেক্ষা করতে হবে প্রায় ২ বছর।
সংস্কার পরবর্তী সকলের অংশগ্রহণে অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে যদি শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতার স্থানান্তর হয়। প্রফেসর ডক্টর ইউনুস স্যার সকলের কাছে হয়ে উঠবেন পূজনীয় এবং দ্বিতীয়বার সত্যিকার অর্থে প্রমাণ করবেন উনি শান্তিতে নোবেল বিজয়ী।