03/05/2026
“কল রেকর্ড”
একটি পূর্ণ পরকীয়া থ্রিলার
রাত ১:৪৭। গাট্টিয়া ব্রিজের নিচে পুলিশের গাড়ি। ব্রিফকেস খুলতেই ভিতর থেকে বের হলো একটা কাটা হাত। আঙুলে বিয়ের আংটি, আর নখে লেগে আছে কালো নেইলপলিশ।
এসআই রাকিবের মাথায় বাজ পড়ল। নেইলপলিশের কালারটা সে চেনে। গতকাল রাতেই তার বউ শায়লার নখে এই রঙ দেখেছে।
৬ মাস আগে
রাকিবের পোস্টিং গাট্টিয়া থানায়। বউ শায়লা ঢাকায় থাকে, ইউনিভার্সিটিতে পড়ায়। দূরত্বের সম্পর্ক। সপ্তাহে একদিন দেখা হয়।
একদিন রাতে থানায় একটা জিডি করতে আসে মাহিন — এলাকার বড় ব্যবসায়ী। বউ নিখোঁজ। নাম তৃণা।
রাকিব কেসটা নেয়। তৃণার ফোন ট্র্যাক করে দেখে লাস্ট লোকেশন: গাট্টিয়া ব্রিজ। সিসিটিভিতে দেখা যায়, তৃণা একটা কালো গাড়িতে উঠছে। গাড়িটা রাকিবের নিজের।
রাকিব ঘামতে শুরু করে। কারণ গত মঙ্গলবার রাতে সে নিজেই তৃণাকে ড্রপ করে দিছিল। তৃণা তার ইউনিভার্সিটির জুনিয়র। আর গত ৩ মাস ধরে তার গোপন প্রেমিকা।
শায়লা ফোন দিলে রাকিব মিথ্যা বলে: “একটা মার্ডার কেস, বিজি আছি।” ওপাশে শায়লা চুপ করে থাকে। রাকিব জানে না, শায়লা তখন মাহিনের বেডরুমে, মাহিনের শার্ট গায়ে দিয়ে দাঁড়ায়ে আছে।
হ্যাঁ, শায়লাও পরকীয়া করে। মাহিনের সাথে। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই জানে না, তারা দুজন একই কাপলকে ঠকাচ্ছে।
আজকে
কাটা হাতটা তৃণার। DNA মিলে গেছে। মাহিন থানায় এসে চিৎকার: “আমার বউকে কে মারলো? রাকিব সাহেব, আপনি তো বলছিলেন খুঁজতেছেন!”
রাকিব তাকায়ে থাকে। সে জানে তৃণা মরেনি। কারণ গতকাল রাতেও তৃণা তাকে ভয়েস মেসেজ পাঠাইছে: “আমাদের কথা শায়লা জেনে গেছে। মাহিন আর শায়লা মিলে আমাকে মারবে। তুমি আমাকে বাঁচাও।”
রাকিব তৃণাকে গাট্টিয়া ব্রিজের নিচে লুকায়ে রাখছিল। তাহলে এই হাত কার?
রাতে শায়লা ফোন দেয়। কাঁদতেছে। “রাকিব, আমি প্রেগন্যান্ট। বাচ্চাটা মাহিনের। মাহিন বলতেছে তৃণাকে সরায়ে দিলে আমরা বিয়ে করব। আমি কি করব?”
রাকিবের মাথা হ্যাং। তার বউ অন্যের বাচ্চা পেটে নিয়ে তাকে বলতেছে আরেকটা খুন করতে হেল্প করতে।
সে শায়লাকে বলে ব্রিজের নিচে আসতে। “সব ঠিক করে দিব।”
রাত ৩:১৬। ব্রিজের নিচে শায়লা আসে। হাতে একটা পেনড্রাইভ। “এইখানে মাহিন আর আমার সব কল রেকর্ড। তৃণাকে মারার প্ল্যান। তুমি এইটা দিয়ে মাহিনকে ফাঁসায়ে দাও। তারপর আমরা নতুন করে শুরু করব।”
রাকিব পেনড্রাইভ নেয়। তারপর পকেট থেকে পিস্তল বের করে। “শায়লা, তৃণা মরে নাই। ওই হাতটা তোমার জন্য আনা।”
শায়লা হাসে। “আমি জানি রাকিব। কারণ হাতটা আমি কাটছি।”
রাকিব ফ্রিজ।
শায়লা ব্যাগ থেকে আরেকটা হাত বের করে। এইবার আঙুলে রাকিবের থানার আংটি। “মর্গ থেকে চুরি করছি। তোমার স্যারের লাশের হাত। তৃণার ফোন থেকে তোমার ভয়েস রেকর্ডও আমার কাছে আছে। ‘আজকে রাতে ব্রিজের নিচে আসো, তোমাকে লুকায়ে রাখব’ — এইটা।”
মানে শায়লা আগে থেকেই জানতো। মাহিন আর শায়লা মিলে রাকিবকে ফাঁসানোর প্ল্যান করছে। তৃণাকে টোপ হিসেবে ইউজ করছে।
পিছন থেকে মাহিন বের হয়। হাতে শাবল। “সরি ভাই, বিজনেস। তৃণা আমার ২০ কোটি টাকার প্রপার্টির নমিনি। ও মরলে টাকা আমার। আর শায়লাকে বিয়ে করলে আপনার ঘুষের টাকাও আমার।”
রাকিব বুঝে যায়, সে নিজেই শিকার। পরকীয়া করতে গিয়ে সে খুনের আসামি হয়ে গেছে।
হঠাৎ ব্রিজের উপর থেকে লাইট মারে। পুলিশ।
তৃণা বেঁচে আছে। সে-ই পুলিশ নিয়ে আসছে। তৃণা কারো প্রেমিকা না। সে একজন আন্ডারকভার সাংবাদিক। মাহিনের টাকার স্ক্যাম, রাকিবের ঘুষ, শায়লার ইউনিভার্সিটির প্রশ্ন ফাঁস — সব রেকর্ড করছে ৬ মাস ধরে।
“কল রেকর্ড” পেনড্রাইভে শুধু মাহিন-শায়লার প্ল্যান না। রাকিব-তৃণার প্রেমের নাটক, শায়লা-মাহিনের বিছানার শব্দ, সব আছে।
তৃণা রাকিবের দিকে তাকায়ে বলে: “সরি রাকিব ভাই। পরকীয়া করলে প্রমাণ থাকে। আর আমি প্রমাণ বিক্রি করে খাই।”
পুলিশ রাকিব, শায়লা, মাহিন তিনজনকেই তুলে নেয়।
৬ মাস পর
কোর্টে জাজ রায় পড়তেছে। মাহিন: যাবজ্জীবন। খুনের চেষ্টা + মানি লন্ডারিং।
শায়লা: ১৪ বছর। খুনের ষড়যন্ত্র + প্রশ্ন ফাঁস।
রাকিব: চাকরি গেছে, ৭ বছর। ক্ষমতার অপব্যবহার + পরকীয়া করে তথ্য পাচার।
তৃণা সাক্ষী দিয়ে বের হয়ে যায়। হাতে তার নতুন বই: “কল রেকর্ড: পরকীয়ার ১০১টা মিথ্যা” — বেস্টসেলার।
বইয়ের শেষ পাতায় লেখা:
“উৎসর্গ: রাকিব, শায়লা ও মাহিনকে। তোমাদের মিথ্যা দিয়ে আমার সত্য বিক্রি হলো।”
জেলের সেলে রাকিব শায়লাকে চিঠি লিখে: “আমরা কি আবার শুরু করতে