25/05/2020
বাংলাদেশের জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৮ কোটির। এই বিপুল জনসংখ্যা সমৃদ্ধ বিশাল বাজারকে ধরার জন্য দেশি বিদেশি নানা কোম্পানি সবধরনের প্রোডাক্ট নিয়েই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর সেই পন্যের প্রসারের জন্য মার্কেটিং একটি অবশ্যপালনীয় বিষয়।
বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর জনপ্রিয়তার সুবাদে অনেক নবীন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে এবং তাদের মার্কেটিং এর অভিজ্ঞতা কম থাকায় “যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পার অমূল্য রতন” এই ব্রত নিয়ে সব প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ শুরু করেন । দিন শেষে দেখা যায় তাদেরে কোন সেল হচ্ছে না এবং এক সময় হতাশ হয়ে পড়েন।
মনে করুন, একজন ক্রেতা একটি রেস্টুরেন্টে ভোজন এর উদ্দেশ্যে গেল এবং সেই রেস্টুরেন্টের খাবার এর মেন্যু চাইল। মেন্যুতে দেখলেন খাবারের বিচিত্র নাম, চেহারা এবং বিচিত্র সাজ। এত কিছু দেখে ক্রেতা কনফিউজ হয়ে শেষ তার পরিচিত ২ টা মেন্যু ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আর কর্ন স্যুপ। এতে কি রেস্তোরাটি খুব লাভবান হলো? নিশ্চয় নয়।
একাধিক প্রোডাক্ট একসাথে ক্রেতার সামনে নিয়ে আসলে ক্রেতা কি ধরনের আচরন করেন তার পরীক্ষার করার জন্য মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ শিনা লিংগার তার কোম্পানিকে কিছু ফ্রি জ্যামের স্যাম্পল ক্রেতাদের সামনে দেয়ার পরামর্শ দিলেন। প্রথম দিন ২৪টি ফ্লেভারের জ্যাম ক্রেতাদেরকে অফার করা হলো। পরের দিন দেয়া হলো ৬টি ফ্লেভার। ফলাফলে পার্থক্য প্রকটভাবে উন্মোচিত হলো। প্রথম দিন- ২০% মানুষ আগ্রহ প্রকাশ করল, কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ৩% ক্রয় করলো। দ্বিতীয় দিন- স্যাম্পল চেখে দেখার পর কিনলো ৩০%! এখানে স্বাদ কোন ফ্যাক্টর না। ফ্যাক্টর হলো মার্কেটিং সাইকোলজি।
তাই নবীন উদ্যোক্তাদের উচিত প্রথম দিকে বিকল্পের সংখ্যা যথাসম্ভব কম রাখা। পরে না হয় ধীরে সুস্থে বাড়াবেন।
সবশেষে এটাই মূল সূত্র। ধীরতা, স্থিরতা। মার্কেট স্টাডি করে গ্রাহক বাড়ানো এক দিনে হয় না। দিনের পর দিন কাজ করতে হয়, সাইকোলজি বুঝতে হয়, চলতি ট্রেন্ডের সাথে নিজেদের আপগ্রেড করে নিতে হয়, তবেই আসে কাঙ্খিত সাফল্য।
©Iqbal Hossain Rasel