25/02/2024
SWOT এনালাইসিস
এটা খুবই সহজ করে আমি আপনাদেরকে বুঝিয়ে দিব যা ব্যবসা করতে বা কোন সিদ্ধান্ত নিতে জানা খুবই জরুরী।
S – Strength (শক্তি)
W – Weakness (দুর্বলতা)
O – Opportunity (সুযোগ)
T – Threat (হুমকি)
কোন উদ্যোগ গ্রহণ করতে গেলে, আপনার কোম্পানির/প্রতিষ্ঠানের এবং আপনার নিজের শক্তি, দুর্বলতা, সুযোগ ও হুমকি (SWOT) পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করা উচিৎ।
এই SWOT এনালাইসিস করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, আপনার ও আপনার প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী দিক গুলো খুঁজে বের করা ও এই সব শক্তিশালী দিক গুলো কোন কোন প্রেক্ষাপটে কাজে লাগানো যায়, সেই সুযোগ বের করা। একই সঙ্গে বাজারে নামতে গেলে কি কি হুমকি রয়েছে, তাও বিবেচনায় নেয়া।
Strength অর্থাৎ কি কি সম্ভাবনা আছে?
সবার আগে ‘নিজের’ কি কি শক্তিশালী বা সম্ভাবনাময় দিক গুলো আছে – তা খুঁজে বের করা। কারণ আপনার এই সব সম্ভাবনার উপর নির্ভর করছে, আপনার জন্য কি কি ‘সুযোগ’ অপেক্ষা করছে।
আপনার নিজের সম্ভাবনা বা শক্তি বলতে কি বোঝায়?
আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা (যদি থাকে) – এগুলো আপনার শক্তি। এছাড়াও আত্মবিশ্বাস, সততা, গ্রহণযোগ্যতা, প্রতিযোগী মনোভাব, ব্যাপক পরিশ্রমী, কমিউনিকেশন স্কিলস – এগুলো ব্যক্তিগত Strength, যা আপনাকে এগিয়ে রাখবে।
আর আপনার প্রতিষ্ঠানের শক্তি হচ্ছে – দক্ষ টীম, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি নির্ভরতা, পরিবর্তনশীলতা, নতুন কে গ্রহণ করার মানসিকতা, পুঁজি, বাজার, গ্রাহক সন্তুষ্টি, পণ্যের গুনগত মান, ভালো কাস্টমার কেয়ার ইত্যাদি। ..মিলিয়ে নিন।
Weakness অর্থাৎ কি কি দুর্বলতা আছে?
আপনার নিজের দুর্বল দিকগুলো খুঁজে বের করা, যেমন আপনার স্বভাব, কোন নেগেটিভিটি, ইগো, রাগ, মানুষকে অসম্মান করা, সন্দেহ করা, আত্মবিশ্বাসের অভাব, অদক্ষতা ইত্যাদি – এগুলো একজন মানুষের দুর্বলতা যা আপনার এগিয়ে যাওয়াকে বাঁধাগ্রস্ত করে। এই সব দুর্বলতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
আবার প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা হচ্ছে – দক্ষতার অভাব, প্রতিযোগিতায় অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে পিছিয়ে থাকা, দক্ষ টীম বা কর্মীর অভাব, মুল্ধনের অভাব, প্রযুক্তির অভাব, পরিবর্তনে অনিহা ইত্যাদি। এগুলো চিহ্নিত করে এই সব দুর্বলতা থেকে প্রতিষ্ঠানকে বের করে আনতে হবে তবেই আপনার প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যাবে ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবে।
Opportunities অর্থাৎ কি কি সুযোগ আছে?
সবাই সুযোগের অপেক্ষায় থাকে এবং সম্ভব হলেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে। এটা নির্ভর করবে আপনার দক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা, অব্জারভেশন পাওয়ার ও ভবিষ্যৎ ফোরকাস্ট করতে পারার উপর। যেমন – কোভিড কেউ কেউ হতাশ হয়ে পড়েছে আবার কেউ কেউ নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছে। কেউ ধ্বংস হয়ে গেছে, কেউ আবার নতুন উদ্দীপনায় শুরু করেছে। প্রতিটি অপ্রতিকুলতা এক একটি সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়।
আবার প্রতিষ্ঠানের সুযোগ গুলো হতে পারে যেমন ঃ পণ্যের চাহিদা বেশী কিন্তু সরবরাহ কম, নিস প্রোডাক্ট, ব্যাপক গ্রাহক সন্তুষ্টি, সৃজনশীল ও আবেগিয় প্রচারনার ফলাফল, সরকারী প্রণোদনা বা অনুকুল পরিবেশ।
কখনো কখনো কোন কোন প্রতিবন্ধকতাও বিরাট সুযোগের দুয়ার খুলে দেয়।
Threats অর্থাৎ হুমকি গুলো কি কি?
আপনার সফলতা ও এগিয়ে যাবার ক্ষেত্রে হুমকি গুলো বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। যেমনঃ আপনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, শারীরিক অসুবিধা, দক্ষতা বা আপডেট না থাকার কারণে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া ইত্যাদি। আবার অনেক সময় আমরা এতো বেশী কাজে ব্যস্ত হয়ে যাই যে নিজের শরীরের যত্ন নিতে ভুলে যাই। তাই প্রতিদিন ১ ঘণ্টা ঘাম ঝরাতে হবে, হাঁটা, দৌড়ানো বা হাল্কা ব্যয়ামের মধ্য দিয়ে। না হয় প্রচুর সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আপনি কাজ করতে পারবেন না।
আপনার প্রতিষ্ঠানের হুমকি গুলো এমন হতে পারে যেমনঃ আইনের পরিবর্তন, প্রযুক্তির পরিবর্তন, বড় প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান, গ্রাহকের রুচির পরিবর্তন, পণ্যের মান খারাপ হয়ে যাওয়া, দক্ষ কর্মী চলে যাওয়া, আপনার নিজের কোম্পানিতে যথাযথ সময় না দেয়া ইত্যাদি।
উপরের ৪ টা বিষয় পর্যালোচনা করে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তবেই আপনার সফলতা কেউ ঠেকাতে পারবে না।
#স্বপ্নদেখুন_সাহসকরুন_শুরুকরুন_লেগেথাকুন
#উদ্যোক্তা
#নিজের_বলার_মতো_একটা_গল্প_ফাউন্ডেশন