13/07/2023
কোম্পানির পুরাতন কার্য পরিধি, প্রমোশনাল কর্মকাণ্ড, লোগো, প্রয়োজন অনুসারে নাম, কাস্টমারদের সন্তুষ্ট করার উপায় এবং পারসেপশন সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন ও পরিমার্জন করাকেই রি-ব্র্যান্ডিং বলা হয়ে থাকে। সহজভাবে বললে, প্রতিষ্ঠানকে যে সব ইউনিক উপাদান অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে পৃথক করে, সেগুলোর পরিবর্তনকেই রি-ব্র্যান্ডিং বলা হয়।
১. শুধু লোগো রি-ডিজাইন আর ওয়েবসাইটের কালার পরিবর্তন করলেই রি-ব্র্যান্ডিং হয় না। রি-ব্র্যান্ডিং একটি বৃহৎ বিষয়।
২. হুটাহাট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে বা শখের বশে করার কাজ রি-ব্র্যান্ডিং নয়।
৩. দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে এবং চরম ঝুঁকি নিয়ে রি-ব্র্যান্ডিং প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।
৪. রি-ব্র্যান্ডিং একটি ব্যয়বহুল ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।
৫. সঠিক পরিকল্পনা এবং যথাযথ লক্ষ্য স্থির না থাকলে রি-ব্র্যান্ডিং করেও সফল হওয়া সম্ভব নয়।
রি-ব্র্যান্ডিং খুবই কার্যকর একটি প্রক্রিয়া ব্যবসাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। বিশ্বের যত বড় বড় টেক এবং নন-টেক কোম্পানি রয়েছে সবাই কোন না কোন সময় রি-ব্র্যান্ডিং প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে যার ভিতরের প্রায় সব গুলো কোম্পানিই সফলতার মুখ দেখেছে। তাই আমরা বলতে পারি প্রয়োজন অনুসারে রি-ব্র্যান্ডিং করলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিক সফল হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
# রি-ব্র্যান্ডিং করার প্রয়োজনীয়তা -
৮০ বা ৯০ এর দশকে প্রতিষ্ঠিত কোন কোম্পানি যদি ২০২২ সালে এসেও একই ধরনের পণ্য বিক্রি করে এবং সেইম মার্কেটিং ক্যাম্পেইন ও প্রমোশনাল এক্টিভিটি বজায় রাখে তাহলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারার সম্ভবনা খুবই কম। কারণ ৯০ এর দশকের আর এখনকার মানুষের রুচি, চিন্তা-ভাবনা এক নয়। বিশেষ করে মোট জনসংখ্যার ভিতরে প্রায় ৪৫% তরুণ প্রজন্মের চিন্তা-ভাবনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাছাড়া এই কয়েক দশকে প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। তাই এই বিশাল তরুণ প্রজন্মকে কাস্টমারে পরিণত করতে, প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজের প্রতিষ্ঠানকে সহজলভ্য ও অটোমেটেড করতে রি-ব্র্যান্ডিং করাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
কোম্পানি নতুন কোন পণ্য বা সার্ভিস প্রদান করার চিন্তা করলে বা সম্পূর্ণ নতুন কোন সেগমেন্ট ভিত্তিক কাস্টমারকে টার্গেট করার জন্য কিংবা ভোক্তাদের মনে কোম্পানির প্রতি যে একঘেয়েমিতা তৈরি হয়েছে তা কাটিয়ে তোলার জন্যও রি-ব্র্যান্ডিং করার প্রয়োজন হয়।
তাছাড়া কোম্পানিতে নতুন কোন সিইও আসলে, কোম্পানি অন্য কোন বৃহৎ কোম্পানির নিকট বিক্রি হলে, পুরাতন কয়েকটি কোম্পানি নতুন ভাবে কোন ব্যবসা শুরু করলে এবং পুরাতন কোম্পানি টি পূর্বে তাদের কার্যক্রমের জন্য ক্রেতাদের নিকট অপছন্দনীয় হলে নতুন উদ্যমে ব্যবসায় শুরু করার জন্য রি-ব্র্যান্ডিং করতে পারে। এক দেশ থেকে গিয়ে অন্য কোন দেশে কোম্পানি নতুন ভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করলে, চলতি ব্যবসায় সফলতা অর্জনে ব্যর্থ হলেও রি-ব্র্যান্ডিং করা যেতে পারে।
# রি-ব্র্যান্ডিং করার প্রক্রিয়া সমূহ -
১. কোম্পানির ভ্যালু এবং মিশন এনালাইসিস করা। এই প্রক্রিয়ায় কোম্পানি রি-ব্র্যান্ডিং করা কেন প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতে কি করতে হবে, মূল লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ইত্যাদি পরিকল্পনা করে ঠিক করতে হবে।
২. যথাযথ কাস্টমার বেজ সিলেক্ট করা বা কোন ধরনের কাস্টমারদের নিকট পণ্য এবং সেবা বিক্রি করতে চায় রি-ব্র্যান্ডিং এর মাধ্যমে তা ঠিক করা।
৩. সঠিক পদ্ধতিতে মার্কেট রিসার্চ করা যে রি-ব্র্যান্ডিং করলে কোম্পানি মার্কেটে এবং কাস্টমারদের নিকট রেলেভেন্ট থাকবে কিনা। এই ধাপে প্রচুর দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।
৪. রি-ব্র্যান্ডিং এর পূর্বের ক্রেতা এবং রি-ব্র্যান্ডিং পরবর্তী ক্রেতাদের একত্র বা মিশ্রণ ঘটানো যাবে নাকি সেই বিষয়টি খেয়াল রাখা।
৫. এই পর্যায়ে সম্পূর্ণ ভাবে চুড়ান্ত পরিকল্পনা করতে হবে যে কি কি উপায়ে কোম্পানি রি-ব্র্যান্ডিং করা হবে এবং কোন কোন উপাদান (যেমন:- নাম, লোগো, ডিজাইন, মিশন, ওয়েবসাইট, মার্কেটিং প্রক্রিয়া ইত্যাদি ) পরিবর্তন করা হবে।
৬. রি-ব্র্যান্ডিং করার পর নতুন রুপে কোম্পানির সকল কর্মকান্ড সাজানো।
৭. ঘটাও করে বা বড় ধরনের কোন প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সকল পক্ষকে রি-ব্র্যান্ডিং সম্পর্কে জানানো। সংবাদ মাধ্যমে নিউজ করে, স্যোসাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বা বড় ধরনের কোন ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে হলেও কোম্পানির রি-ব্র্যান্ডিং সবাইকে জানানো টা জরুরি।
৮. পরিশেষে কোম্পানি রি-ব্র্যান্ডিং করার পর রি-লঞ্চিং করা।
প্রকৃতপক্ষে, রি-ব্র্যান্ডিং শুধুমাত্র কাস্টমারকেই কেন্দ্র করে করলেও এর সাথে আরো অনেক পক্ষই জড়িত থাকে। যেমন:- বিনিয়োগকারী, দেনাদার-পাওনাদার, মধ্যস্থাকারী, প্রতিযোগী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ইত্যাদি ।
রি-ব্র্যান্ডিং এর ফলে ব্যবসায়ে নতুন ধরনের কাস্টমার আসে তাই বিক্রয় বৃদ্ধি পায়। রি-ব্র্যান্ডিং এর মাধ্যমে কোম্পানি কাস্টমারদের নিকট নতুন রুপে জন্ম নেয় এর ফলে কোম্পানির প্রতি জনসাধারণের আস্থা বৃদ্ধি পায়।
কোম্পানি রি-ব্র্যান্ডিং করে নতুন ধারায় কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে যদি পূর্বের ন্যায় বা তার চেয়ে বেশি সফলতা অর্জন করে তবেই তাকে সফল রি-ব্র্যান্ডিং বলা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি সব কোম্পানিই রি-ব্র্যান্ডিং করার ফলে সফলতা অর্জন করতে পারে না বরং তারা পূর্বে যতটুকু ব্যবসা করতে সক্ষম ছিল সেই সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। পূর্বে যে পরিমাণ কাস্টমার ছিল তাও আস্তে আস্তে হারাতে শুরু করে, তাই প্রয়োজন অনুসারে সঠিক পরিকল্পনা এবং মার্কেট রিসার্চের মাধ্যমেই রি-ব্র্যান্ডিং করা উচিৎ।
"বিজনেস ইনসাইডারের মতে, শুধুমাত্র রি-ব্র্যান্ডিং এর ফলেই পিজ্জা চেইন কোম্পানি ডোমিনোস বর্তমানে ৫০% এর বেশি মার্কেট অধিগ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে।"
চলুন সফল ভাবে রি-ব্র্যান্ডিং করা কিছু কোম্পানির গল্প জেনে আসি!
ডোমিনোস -
ডোমিনোস ২০০৯ সালের দিকে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাচ্ছিল, সেই সময় মাত্র ৭% মার্কেট শেয়ার নিয়ে সবার নিচে অবস্থান করছিল। ২০০৯ সালেই ডোমিনোস রি-ব্র্যান্ডিং করে। তারা তাদের কোম্পানিকে টেক ভিত্তিক পিজ্জা চেইন কোম্পানিতে রুপান্তরিত করে। যেমন:- প্রথম বারের মত ডোমিনোস-ই মেসেজের রিপ্লাই দেবার জন্য চ্যাটবোট চালু করে তারপর রোবোট, ড্রোন, অটো-পাইলোট গাড়ির মাধ্যমে হোম ডেলিভারি সার্ভিস এবং ৩০ মিনিটে পিজ্জা হোম ডেলিভারি করতে না পারলে ফ্রিতে পিজ্জা প্রদান করার মতো ইনোভেটিভ কার্যক্রম শুরু করে। রি-ব্র্যান্ডিং এর মাধ্যমে উপরের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে বলেই বর্তমানে ডোমিনোস বিশ্বের এক নাম্বার পিজ্জা চেইন কোম্পানি পরিণত হয়েছে।
দারাজ -
বাংলাদেশের অন্যতম সফল ই-কমার্স কোম্পানি "দারাজ"। দারাজ ২০২২ এর শুরুতেই তাদের কোম্পানির রি-ব্র্যান্ডিং সম্পূর্ণ করেছে। তাদের লোগো রি-ডিজাইন এবং কোম্পানির কার্য পরিধি বাড়ানোর মাধ্যমে। যেমন:- লজিস্টিকস, পণ্য এবং রিসেলারদের সুবিধা সমূহ বৃদ্ধি করার মধ্যে দিয়ে রি-ব্র্যান্ডিং সম্পূর্ণ করেছে। রি-ব্র্যান্ডিং প্রক্রিয়ার পর দারাজের কাস্টমার প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং তারা সফলতার সাথেই কোম্পানি পরিচালনা করছে।
ইনস্টাগ্রাম -
ইনস্টাগ্রাম ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হবার সময় তাদের কোম্পানির লোগো ছিল একটি এনালগ ক্যামেরার প্রতীক। সময়ের সাথে সাথে বাজারে ডিজিটাল ক্যামেরা ও উন্নত মানের ক্যামেরা সংবলিত স্মার্ট ফোন আসলে এবং নতুন অডিয়েন্সকে আকৃষ্ট করার জন্য তাদের সেই এনালগ ক্যামেরার প্রতীক পরিবর্তন করার প্রয়োজন অনুভব করে। পরবর্তীতে জাস্ট নান্দনিক রংয়ের একটি ক্যামেরা সাইন হিসেবে লোগো রি-ডিজাইন করার পাশাপাশি অন্যান্য ফিচার এবং মার্কেটিং কার্যক্রমে পরিবর্তনের মাধ্যমে ২০১৬ সালে রি-ব্র্যান্ডিং করে যা ইনস্টাগ্রাম কে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায় এবং সারা পৃথিবী ব্যাপী সবার পছন্দের স্যোসাল মিডিয়ায় পরিণত করে। বর্তমানে ফটোশেয়ারিং প্লাটফর্ম গুলোর মধ্যে ইনস্টাগ্রাম মার্কেট লিড করছে।
"Keep your brand Interesting, Compelling, and Fresh."
যোগাযোগের ঠিকানাঃ প্রিয়রুপ ডিজিটাল
- ফোনঃ +8801714044237
- ইমেইলঃ [email protected]
- ওয়েবসাইটঃ https://prioroopdigital.com/