17/10/2020
সরকারী নিয়ম হচ্ছে, NTTN কোম্পানিগুলো মাটির নিচ দিয়ে ক্যাবল টেনে আইএসপিগুলোকে ডাটা কানেক্টিভিটি বা ডার্ক কোর সরবরাহ করবে। আইএসপিগুলো তাদের সেবা গ্রহন করে গ্রাহকদের ইন্টারনেট সেবা প্রদান করবে।
কিন্তু NTTN কোম্পানিগুলো মেইন রোডগুলোই সম্পূর্নভাবে কভার করতে পারে নাই। আবার অনেক স্থানে তাদের ওভারহেড ক্যাবল রয়েছে। আর যেসব স্থানে আন্ডারগ্রাউন্ড সার্ভিস আছে, সেগুলোর কোন মূল্য নির্ধারিত না থাকায় একেক স্থানে একেক রকম মূল্য ধরছে তারা।
গ্রাহকদের স্বল্পমূল্যে বেশি স্পিডের ইন্টারনেট সার্ভিস দিতে হলে হয় ওভারহেড ক্যাবল টানতে হবে নাহয় NTTN কোম্পানিগুলোর উপর নির্ভর করতে হবে।
বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায়, আইএসপিরা একরকম বাধ্য হয়েই ওভারহেড ক্যাবল টেনে গ্রাহকদের ইন্টারনেট সেবা দিয়ে আসছে। তবে এটাও সত্য যে, নিয়মিত ড্রেসিংয়ের অভাবে কিছু স্থানে ক্যাবলগুলো অগোছালো হয়ে থাকে।
সিটি কর্পোরেশনের ক্যাবল কাটা শুরু হওয়ার আগ থেকেই বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ওভারহেড ক্যাবলগুলো ড্রেসিংয়ের কাজ করা হচ্ছিলো। কিন্তু প্রায় ২ মাস ধরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন প্রতিনিয়ত সকল ক্যাবল কেটে দিচ্ছে কোন বিকল্প ব্যবস্থা না করেই।
আইএসপিগুলো গ্রাহকদের নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা দিতে গিয়ে প্রতিনিয়তই ক্যাবলগুলো রিস্টোর করছে। যেহেতু বিকল্প কোন ব্যবস্থা নাই, সেহেতু একইভাবে ওভারহেড ক্যাবল টানা হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন আবারও সেই ক্যাবল কেটে দিচ্ছে।
এই পর্যন্ত কোটি কোটি টাকার ক্যাবল এমনভাবে কাটা হয়েছে যা পুনরায় ব্যবহার করার অযোগ্য। অনেক ছোট ও মাঝারি আইএসপির কাছে নতুন করে ক্যাবল কিনে সেটি টানানোর মতো আর্থিক সক্ষমতা নাই। বড় আইএসপিগুলোর অবস্থাও খুবই খারাপ।
গ্রাহকদের নিরবিচ্ছিন্ন সেবা অক্ষুন্ন রাখায় অনেক গ্রাহকরাই এখন পর্যন্ত আইএসপিদের ভিতরকার ভয়ংকর দুরবস্থার কথা জানতেই পারছেন না। যেই হারে ক্যাবল কাটা হচ্ছে, সেটি প্রতিনিয়ত রিস্টোর করা আর সম্ভব হচ্ছে না। আইএসপিগুলোর পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গিয়েছে।
তাই আইএসপিএবি থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে, বিকল্প কোন ব্যবস্থা না রেখেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন যেসব এলাকায় ক্যাবল কেটে দিবে, এর সুষ্ঠ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আইএসপি-রা সেই ক্যাবল আর রিস্টোর করবে না।
একই সাথে এই হয়রানি ও ক্ষতি বন্ধ না করা হলে, ১৮ই অক্টোবর ২০২০ইং তারিখ থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সকল প্রকার ইন্টারনেট ও ইন্টারনেট সংক্রান্ত সেবা বন্ধ রাখা হবে।
যারা এমন সিদ্ধান্তকে গ্রাহকদের বিরুদ্ধে বলে মনে করছেন, তাদেরকে বিনীতভাবে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, করোনা মহামারীর কারনে লকডাউনের সময় যখন দেশ সম্পূর্ণ অচল হয়ে গিয়েছিলো... তখন ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই কিন্তু জীবনের মায়া না করে দেশকে ইন্টারনেট যোগাযোগের মাধ্যমে সচল রেখেছিলো।
অবস্থা কতটা খারাপ হলে এমন সিদ্ধান্ত হতে পারে সেটি গ্রাহকদের অনুধাবন করা উচিৎ। আশা করছি, গ্রাহকগন নিজেদের সেবার মান অক্ষুন্ন রাখতে এই প্রতিবাদে সমর্থন দিবেন।
বি.দ্র.: কোন আইএসপি ক্যাবল কাটা ও সৌন্দর্য্যবর্ধনের বিপক্ষে নয় কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা ও পরিকল্পনা ছাড়া এভাবে ক্যাবল কেটে দেয়ার বিপক্ষে।