31/05/2026
আমাদের ছোটবেলাটা ছিল একেবারেই অন্যরকম। এখনকার ছেলেমেয়েরা ছোটবেলা থেকেই হাতে প্রযুক্তি পায়, কিন্তু আমাদের সময়ে সেই সুযোগ ছিল না। খেলাধুলা নিয়েও খুব একটা বুঝতাম না। তবে ২০০২ সালের বিশ্বকাপ যেন আমার জীবনের অনেক কিছুই বদলে দিয়েছিল।
তখন আমি স্কুলে পড়ি, ক্লাস টেনে। আমাদের স্কুলের অডিটোরিয়ামে একটা টেলিভিশন ছিল, আর সেই টেলিভিশনকে ঘিরেই বিশ্বকাপের উত্তেজনা। তখন থেকেই আমি ব্রাজিলের অন্ধ সমর্থক। ৯০-এর দশক থেকে শুরু হওয়া ব্রাজিলের সোনালি যুগের শেষ ঝলক যেন দেখেছিলাম ২০০২ বিশ্বকাপে। রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনহো, কাকাদের সেই তারকাখচিত দল ছিল সত্যিই ফুটবলের এক স্বপ্নরাজ্য।
বিশ্বকাপের উন্মাদনায় আমি সেবার মাথাও ন্যাড়া করে ফেলেছিলাম! সেই সময় থেকেই খেলাধুলার প্রতি আমার ভালোবাসা গভীর হতে শুরু করে। আর আনন্দের বিষয়, সেই বিশ্বকাপেই ব্রাজিল জয় করে তাদের পঞ্চম বিশ্বকাপ শিরোপা। তাই কৈশোরের সেই স্মৃতিগুলো আজও হৃদয়ের গভীরে অমলিন হয়ে আছে।
কিন্তু সত্যি বলতে, এরপর আর সেই ব্রাজিলকে খুঁজে পাইনি। অনেক বড় বড় তারকা এসেছে, অসংখ্য প্রতিভাবান খেলোয়াড় জন্ম নিয়েছে, কিন্তু ২০০২ সালের সেই দলগত সমন্বয়, সেই আত্মবিশ্বাস আর সেই জাদুকরী ফুটবল যেন আর ফিরে আসেনি।
তাই আজও ব্রাজিলকে ভালোবাসি, সমর্থন করি, তাদের জয়-পরাজয়ে আবেগী হই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আগের মতো প্রত্যাশা আর করতে পারি না। আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়েও খুব বেশি আশাবাদী নই। তবুও হৃদয়ের এক কোণে বিশ্বাস রয়ে গেছে—হয়তো কোনো একদিন আবার ফিরে আসবে সেই হলুদ জার্সির জাদু, ফিরে আসবে আমার কৈশোরের সেই ব্রাজিল। 🇧🇷💛⚽