04/05/2026
১৯৭৭ সালের কথা। ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা ভ্যালি তখনও 'সিলিকন ভ্যালি' নাম পায়নি ঠিকমতো। গ্যারেজে গ্যারেজে স্বপ্ন পাকাচ্ছে কিছু তরুণ। কম্পিউটার তখন সাধারণ মানুষের ঘরে আসেনি, আসার কথাও কেউ ভাবেনি।
সেই সময় স্টিভ জবস আর স্টিভ ওজনিয়াক মিলে একটা কোম্পানি দাঁড় করাচ্ছেন। নাম অ্যাপল। ছোট্ট অফিস, ছোট্ট দল, বড় স্বপ্ন। কিন্তু সেই মুহূর্তে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে একটা ছোট্ট জিনিস, "লোগো" পুরনো লোগোটা দেখলে এখন হাসি পায়। একটা গাছের নিচে বসে আছেন আইজ্যাক নিউটন, মাথার উপর আপেল ঝুলছে। ছবিটা বেশ যত্ন করে আঁকা। কিন্তু এই জিনিস লোগো হিসেবে কাজ করে না। লোগো হতে হয় এমন যে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে এক ঝলক দেখলেই চেনা যায়। পণ্যের গায়ে ছোট্ট করে ছাপলেও বোঝা যায়। এটা সেরকম না। তখন ডাকা হলো গ্রাফিক ডিজাইনার রব জ্যানঅফকে। জ্যানঅফ বসলেন কাজে। ভাবলেন কোম্পানির নাম অ্যাপল, তাহলে আপেলই আঁকো। জটিল কিছু করার দরকার নেই। কিন্তু সহজ জিনিস আঁকতে গিয়ে পড়লেন বিপদে। গোল আপেলটা আঁকার পর দেখা গেল, জিনিসটা আপেলের মতো লাগছে না। লাগছে চেরির মতো। কিংবা বরইয়ের মতো। কিংবা যেকোনো গোল ফলের মতো। সমস্যাটা আসলে চোখের। মানুষের চোখ একটা গোল আকৃতি দেখলে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না এটা কোন ফল। জ্যানঅফ অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলেন আঁকাটার দিকে। তারপর পেনসিলটা তুললেন। আপেলের ডান পাশে একটু কামড় বসিয়ে দিলেন। ছোট্ট একটা বাঁক, যেন কেউ এইমাত্র একটা কামড় দিয়েছে। ব্যস। সেই এক কামড়ে সব সমস্যা শেষ। চেরিতে কামড় দেওয়া যায় না। বরইয়ে কামড়ের দাগ এরকম হয় না। সেই ছোট্ট অর্ধচন্দ্রাকার বাঁকটা মস্তিষ্ককে সঙ্গে সঙ্গে বলে দেয় এটা আপেল।
ডিজাইনের ভাষায় এটাকে বলে clarity বা স্পষ্টতা। আর এই স্পষ্টতাটুকু এলো মাত্র একটা কামড় থেকে। লোগোটা বের হওয়ার পর শুরু হলো আরেক খেলা। মানুষ দেখতে লাগল, আর মাথায় গল্প বানাতে লাগল। একদল বলল নিশ্চয়ই এটা অ্যালান টুরিংয়ের প্রতি শ্রদ্ধা। সেই গণিতবিদ, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানদের এনিগমা কোড ভেঙে দিয়েছিলেন। যিনি শেষমেশ বিষ মাখানো আপেলে কামড় দিয়ে মারা গিয়েছিলেন বলে অনেকে মনে করেন। গল্পটা শুনতে মর্মস্পর্শী। কিন্তু জ্যানঅফ নিজে বলেছেন এই জিনিস তার মাথায়ই আসেনি। আরেকদল বলল কামড় মানে byte! আপেলের কামড়, কম্পিউটারের byte কী দারুণ এক্সপ্রেশন! কিন্তু এটাও নিছক কাকতাল। জ্যানঅফের মাথায় তখন শুধু একটাই প্রশ্ন ছিল আপেলটাকে আপেলের মতো দেখাবো কীভাবে। এরপর কেটে গেছে প্রায় পঞ্চাশ বছর।
অ্যাপল হয়েছে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে দামি কোম্পানিগুলোর একটা। আইম্যাক এসেছে, আইপড এসেছে, আইফোন এসেছে। বদলে দিয়েছে মানুষের জীবনযাপন। আর সেই কামড় দেওয়া আপেলটা? কোটি কোটি মানুষের পকেটে এখন একটুকরো অ্যাপল। 🍎