03/08/2024
কাসিদায়ে শাহ নেয়ামাতুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ভবিষ্যৎবাণী ও প্রিয় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এবং গাজওয়াতুল হিন্দঃ
মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত কুদরতি ইলহাম উনার জ্ঞান দ্বারা আজ থেকে প্রায় সাড়ে আটশত বছর পুর্বে হিজরী ৫৪৮ সাল মোতাবেক ইসায়ী ১১৫২ সালে শাহ নেয়ামতুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত কাব্যগুলো রচনা করেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি অনেক ওলী আউলিয়া পীর মাশায়েখ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের উনার কুদরত থেকে অসাধারন কিছু জ্ঞান দিয়েছেন যেমন উপমহাদেশের বিখ্যাত অলি আল্লাহ শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ইলহামী ইলম দিয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ সাওয়াতিউল ইলহাম রচনা করেন, অনুরুপ হযরত শাহ্ নেয়ামতউল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন একজন অনেক উচু মাপের ওলী আল্লাহ। তাই উনি সেই ইলমে লাদুনীর (মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত জ্ঞান) কিছু অংশ এই কবিতায় প্রকাশ করেছেন যা আপনি যদি এই কবিতাটি মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে সহজেই বুঝতে পারবেন যদি ইসলামি জ্ঞানের মাত্রা একটু বেশি থাকে।
এই সম্মানিত পবিত্র কাসিদা শরিফ লিখার পর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত প্রতিটি ভবিষ্যদ্বানী হুবহু মিলেছে বিন্দুমাত্র ব্যবধান হয়নি। ব্রিটিশ বড় লাট লর্ড কার্জনের শাসনামলে (১৮৯৯-১৯০৫) পবিত্র কাসিদা শরিফ খানা উনার প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কবিতার ৩৭ নং প্যারা থেকো খেয়াল করুন। কারন এর পুর্বের লাইন গুলো অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাওয়ায় শুধুমাত্র বর্তমান ও ভবিষতে কি ঘটতে পারে এটাই আমাদের দেখার বিষয়।
আমারা দুর্ভাগ্যবান বলতে পারেন! কারন পাকিস্তানি মুসলিম ভাইদের মাঝে পবিত্র কাসিদা শরিফ বেশ পরিচিত, প্রসিদ্ধ এবং সমাদৃত অথচ বাংলাদেশে এ সম্পর্কে আমাদের কোনো খোঁজই নেই।
কাসীদায়ে শাহ নেয়ামাতুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে আরো জানতে এই লেখাটি পড়তে পারেন।
পবিত্র কাসিদা শরিফ টি পিডিএফ আকারে পড়ুন ও ডাউনলোড করুন এখান থেকে। হযরত শাহ নেয়ামতুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাসিদা শরিফ এর উর্দু পিডিএফ ডাউনলোড লিংকঃ
(https://goo.gl/dnRMps) ১.৩ মেগাবাইট ৬০ পৃষ্টা(https://goo.gl/HAogGF) ৬.৮ মেগাবাইট ৬০ পৃষ্টা
কবিতা টি ইসলামিক ফাউন্ডেসনের প্রকাশিত “কাসিদায়ে সাওগাত” বইতে পাবেন। এই ছাড়াও মদিনা পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত ”মুসলিম পুনঃজাগরণ প্রসঙ্গ ইমাম মাহদি” বইতেও পাবেন। যারা উর্দু বুঝেন তারা এই নিয়ে ৮ পর্বের সিরিজ আলোচনা শুনতে পারেন, পাকিস্তানী বিশেষজ্ঞ জায়েদ হামিদ খুব সুন্দর করে ব্যাখ্যা সহ কারে উনার সকল ভবিষ্যৎ বাণী (ইলহাম) তুলে ধরেছেন।
বাংলা ভাষায় রুহুল আমীন খান অনূদিত শাহ নিয়ামতুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একটি কবিতা ১৯৭০/৭১ এর দিকে এদেশে প্রকাশিত হয়েছিল। কবিতাটিতে ৫৪ টি প্যারা রয়েছে। কোনো এক ভাই সেটি অনলাইনে সংকলন করেছিলেন, আমি নতুন করে পরিমার্জিত করে পুনঃসম্পাদন করে নিম্নে তা দিলাম টিকা ছাড়া।
(১)পশ্চাতে রেখে এই ভারতবর্ষের অতীত কাহিনী যতোআগামী দিনের সংবাদ কিছু বলে যাই অবিরত।
(২)দ্বিতীয় দাওরে হুকুমত হবে তুর্কী মুঘলদেরকিন্তু শাসন হইবে তাদের অবিচার যুলুমের।
(৩)ভোগ বিলাসে আমোদ-প্রমোদে মত্ত থাকিবে তারাহারায়ে ফেলিবে স্বকীয় মহিমা তুর্কী স্বভাব ধারা।
(৪)তাদের হারায়ে ভিন দেশী হবে শাসন দণ্ডধারীজাকিয়া বসিবে, নিজ নামে তারা মুদ্রা করিবে জারি।
(৫)এরপর হবে রাশিয়া-জাপানে ঘোরতর এক রণরুশকে হারিয়ে সেই রণেতে বিজয়ী হবে জাপানীগণ।
(৬)শেষে দেশ-সীমা নিবে ঠিক করে মিলিয়া উভয় দলচুক্তিও হবে, কিন্তু তাদের অন্তরে রবে ছল।
(৭)ভারতে তখন দেখা দিবে প্লেগ আকালিক দুর্যোগমারা যাবে তাতে বহু মুসলিম হবে মহাদুর্ভোগ।
(৮)এরপর পরই ভয়াবহ এক ভূকম্পনের ফলেজাপানের এক তৃতীয়াংশ যাবে হায় রসাতলে।
(৯)পশ্চিমে চার সালব্যাপী তখন হবে ঘোরতর মহারণপ্রতারণা বলে হারাবে এ রণে জীমকে আলিফগণ।
(১০)এ সমর হবে বহু দেশ জুড়ে অতীব ভয়ঙ্করনিহত হইবে এতে এক কোটি ত্রিশ লক্ষ নারী ও নর।
(১১)অতঃপর হবে রণ বন্ধের চুক্তি উভয় দেশেকিন্তু তা হবে ক্ষণভঙ্গুর টিকিবে না অবশেষে।
(১২)নিরবে চলিবে মহাসমরের প্রস্তুতি বেশুমার‘জীম’ ও আলিফে খ- লড়াই ঘটিতে থাকিবে বারংবার।
(১৩)চীন ও জাপানে দু’দেশ যখন লিপ্ত থাকিবে রণেনাসারা তখন রণ প্রস্তুতি চালাবে সঙ্গোপনে।
(১৪)প্রথম মহা-সমরের শেষে একুশ বছর পরশুরু হবে ফের আবারো তখন ভয়াবহ দ্বিতীয়-সমর।
(১৫)ভারতবাসী এই সমরে যদিও সহায়তা দিয়ে যাবেতার থেকে তারা প্রার্থিত কোন সুফল নাহিকো পাবে।
(১৬)বিজ্ঞানীগণ এ সমরকালে হবে অতিশয় আধুনিককরিবে তৈয়ার অতি ভয়াবহ হাতিয়ার আনবিক।
(১৭)গায়েবী ধনির যন্ত্র বানাবে নিকটে আসিবে দূরপ্রাচ্যে বসেও শুনিতে পাইবে প্রতীচীর গান-সুর।
(১৮)মিলিত হইয়া ‘প্রথম আলিফ’ ‘দ্বিতীয় আলিফ’ দ্বয়গড়িয়া তুলিবে রুশ-চীন সাথে আতাত সুনিশ্চয়।
(১৯)ঝাপিয়ে পড়িবে ‘তৃতীয় আলিফ’ এবং দু’জীম ঘাড়েছুড়িয়া মারিবে গজবী পাহাড় আনবিক হাতিয়ারে।
(২০)জগৎ জুড়িয়া ছয় সালব্যাপী এই রণে ভয়াবহহালাক হইবে অগিণত লোক ধন সম্পদ সহ।
(২১)মহাধ্বংসের এ মহাসমর অবসানে অবশেষেনাসারা শাসক ভারত ছাড়িয়া চলে যাবে নিজ দেশেকিন্তু তাহারা থাকিবার লাগি চিরকাল ভারতবাসীর মনেমহাক্ষতিকর বিষাক্ত বীজ বুনে যাবে সেই সনে।
(২২)ভারত ভাঙ্গিয়া হইবে দু’ভাগ শঠতায় নেতাদেরমহাদুর্ভোগ দুর্দশা হবে দু’দেশেরি মানুষের।
(২৩)মুকুটবিহীন নাদান বাদশা পাইবে শাসনভারকানুন ও তার ফর্মান হবে আজেবাজে একছার।
(২৪)দুর্নীতি ঘুষ কাজে অবহেলা নীতিহীনতার ফলেশাহী ফর্মান হবে পয়মাল দেশ যাবে রসাতলে।
(২৫)হায় আফসোস করিবেন যত আলেম ও জ্ঞানীগণমূর্খ বেকুফ নাদান লোকেরা করিবে আস্ফালন।
(২৬)পেয়ারা নবীর (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মতগণ ভুলিবে আপন শানঘোরতর পাপ পঙ্গিলতায় ডুবিয়া থাকিবে গাফেল মুসলমান।
(২৭)কালের চক্রে স্নেহ-তমীজের ঘটিবে যে অবসানলুণ্ঠিত হবে মানী লোকদের ইজ্জত ও সম্মান।
(২৮)উঠিয়া যাইবে বাছ ও বিচার হালাল ও হারামেরলজ্জা রবে না, লুণ্ঠিত হবে ইজ্জত নারীদের।
(২৯)পশুর অধম হইবে তাহারা ভাই-বোনে, মা-বেটায়জেনা ব্যাভিচারে হইবে লিপ্ত পিতা আর কন্যায়।
(৩০)নগ্নতা আল অশ্লীলতায় ভরে যাবে সব গৃহনারীরা উপরে সেজে রবে সতী ভেতরে বেচিবে দেহ।
(৩১)উপরে সাধুর লেবাস ভেতরে পাপের বেসাতি পুরানারী দেহ নিয়ে চালাবে ব্যবসা ইবলিসের বন্ধুরা।
(৩২)নামায ও রোজা, হজ্জ্ব যাকাতের কমে যাবে আগ্রহধর্মের কাজ মনে হবে বোঝা দারুন ও দুর্বিষহ।
(৩৩)কলিজার খুন পান করে বলি শোন হে বৎসগণখোদার ওয়াস্তে ভুলে যাও সব নাসারার আচরণ।
(৩৪)পশ্চিমা ঐ অশ্লীলতা আর নগ্নতা বেহায়াপনামিডোবাবে তোমাদের, খোদার কঠোর গজব আসিবে নামি।
(৩৫)ধ্বংস নিহত হবে মুসলিম বিধর্মীদের হাতেহবে নাজেহাল, ছেড়ে যাবে দেশ ভাসিবে রক্তপাতে।
(৩৬)মুসলমানের জান-মাল হবে খেলনা-মুল্যহতরক্ত তাদের প্রবাহিত হবে সাগর স্রাতের মত।
(৩৭)এরপর যাবে ভেগে নারকীরা পাঞ্জাব কেন্দ্রেরধন সম্পদ আসিবে হাতে দখলে মুমিনদের।
(৩৮)অনুরূপ হবে পতন একটি শহর মুমিনদেরতাহাদের ধনসম্পদ যাবে দখলে হিন্দুদের।
(৩৯)হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ সেখানে চালাইবে তারা ভারিঘরে ঘরে হবে ঘোর কারবালা ক্রন্দন আহাজারি।
(৪০)মুসলিম নেতা-অথচ বন্ধু কাফেরের তলে তলেমদদ করিবে অরি কে সে এক পাপ চুক্তির ছলে।
(৪১)প্রথম অক্ষরেখায় থাকিবে শীনে’র অবস্থানশেষের অক্ষরে থাকিবে নূন’ ও বিরাজমানঘটিবে তখন এসব ঘটনা মাঝখানে দু’ঈদেরধিক্কার দিবে বিশ্বের লোক জালিম হিন্দুদের।
(৪২)মহরম মাসে হাতিয়ার হাতে পাইবে মুমিনগণঝঞ্বারবেগে করিবে তাহারা পাল্টা আক্রমণ।
(৪৩)সৃষ্টি হইবে ভারত ব্যাপিয়া প্রচণ্ড আলোড়ন‘উসমান’ এসে নিবে জেহাদের বজ্র কঠিন পণ।
(৪৪)‘সাহেবে কিরান-‘হাবীবুল্লাহ’ হাতে নিয়ে শমসেরখোদায়ী মদদে ঝাপিয়ে পড়িবে ময়দানে যুদ্ধের।
(৪৫)কাপিবে মেদিনী সীমান্ত বীর গাজীদের পদভারেভারতের পানে আগাইবে তারা মহারণ হুঙ্কারে।
(৪৬)পঙ্গপালের মত ধেয়ে এসে এসব ‘গাজীয়ে দ্বীন’যুদ্ধে জিতিয়া বিজয় ঝাণ্ডা করিবেন উড্ডিন।
(৪৭)মিলে এক সাথে দক্ষিণী ফৌজ ইরানী ও আফগানবিজয় করিয়া কবজায় পুরা আনিবে হিন্দুস্তান।
(৪৮)বরবাদ করে দেয়া হবে দ্বীন ইসলামের ছিলো যারা দুশমনঅঝোর ধারায় হইবে তখন মহান আল্লা’র রহমত বর্ষণ।
(৪৯)দ্বীনের বৈরী ছিলো শুরুতে ছয় হরফেতে নামপ্রথম হরফ গাফ সে কবুল করিবে দ্বীন ইসলাম।
(৫০)মহান আল্লা’র খাস রহমতে হবে মুমিনেরা খোশদিলহিন্দু রসুম-রেওয়াজ এ ভূমে থাকিবে না এক তিল।
(৫১)ভারতের মত পশ্চিমাদেরও ঘটিবে বিপর্যয়তৃতীয় বিশ্ব সমর সেখানে ঘটাইবে মহালয়।
(৫২)এ রণে হবে ‘আলিফ’ এরূপ পয়মাল মিসমারমুছে যাবে দেশ, ইতিহাসে শুধু নামটি থাকিবে তার।
(৫৩)যত অপরাধ তিল তিল করে জমেছে খাতায় তারশাস্তি উহার ভুগতেই হবে নাহি পাপে নিস্তারকুদরতী হাতে কঠিন দণ্ড দেয়া হবে তাহাদেরধরা বুকে শির তুলিয়া নাসারা দাড়াবে না কভু ফের।
(৫৪)যেই বেঈমান দুনিয়া ধ্বংস করিল আপন কামেনিপাতিত শেষকালে সে যাবে নিজেই জাহান্নামে।
(৫৫)রহস্যভেদী যে রতন হার গাথিলাম আমি গায়েবী মদদ লভিতে,আসিবে উস্তাদসম কাজে তাহা ভবিষ্যতে।
(৫৬)অতিসত্বর যদি, মহান আল্লা’র মদদ পাইতে চাওউনারই হুকুম তালিমের কাজে নিজেকে বিলিয়ে দাও।
(৫৭)’কানা জাহুকার’ প্রকাশ ঘটার সালেই প্রতিশ্রুতইমাম মাহাদি (আলাইহিস সালাম) দুনিয়ার বুকে হবেন আবির্ভূত।
(৫৮)চুপ হয়ে যাও ওহে নেয়ামত এগিও না মোটে আরফাঁস করিও না খোদার গায়বী রহস্যের ভাণ্ডারএ কাসিদা বলা করিলাম শেষ ‘কুনুত কানয’ সালেঅদ্ভুত এই রহস্যের কাসিদা ফলিবে কালে কালে।
টীকাঃ ‘কুনুত কানয সাল’ অর্থাৎ হিজরি সন ৫৪৮ মোতাবেক ১১৫৮ ইংরেজি সাল হচ্ছে এ কাসিদার রচনা কাল। এটা আরবি হরফের নাম অনুযায়ী সাংকেতিক হিসাব।
Access Google Sites with a personal Google account or Google Workspace account (for business use).