13/12/2020
ফ্রিল্যান্সিং কি | নতুনদের জন্য উপযোগী ৩টি ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস
ফ্রিল্যান্স (Freelance) শব্দটি Free এবং Lance দুটি শব্দের সমান্বয়ে তৈরি। ১৯০০ শতকের শুরু হতে এই শব্দটির প্রচার ও প্রসার বাড়তে থাকে।
ফ্রিল্যান্সার (Freelancer) হচ্ছে এমন একজন ব্যক্তি যিনি কোনো নির্দ্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে কোনো প্রকার চুক্তিবদ্ধ না হয়ে স্বাধীন ভাবে কাজ করে থাকে। এখানে তার কাজের কোনো নির্দ্দিষ্ট পারিশ্রমিক নাও থাকতে পারে, আবার ফুল টাইম বা পার্ট টাইম এ বিষযটি নির্দ্দিষ্ট নাও হতে পারে।
যেমন: একজন রাইটার যিনি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু কন্টেন্ট লিখে থাকে। তেমনি একজন লোগো ডিজাইনার কিছুদিনের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হয়ে লোগো ডিজাইন করে থাকে।
একজন ফ্রিল্যান্সার নিজেই তার পচ্ছন্দের কাজ বেছে নেয়, এক্ষেত্রে কেউ তাকে জোর করে কোনো কাজ চাপিয়ে দিতে পারে না।
আপনি কত পারিশ্রমিক মূল্যে কাজ করবেন এটা অনেক সময় আপনি নিজেই নির্ধারন করে থাকেন।
আপনি ফ্রিল্যান্সিং যেকোনো সময় শুরু করতে পারেন। এর জন্য খুব বেশী কোনো পূর্ব প্রস্তুতি দরকার পরেনা। শুধুমাত্র আপনি কোন একটি নির্দ্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষ হলে ঐটা নিয়েই কাজ শুরু করতে পারবেন।
নতুনদের জন্য কতটা উপযোগী
ফাইভার (Fiverr)
ফাইভার একটি মাইক্রো -ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস এবং বর্তমানে নতুনদের বা বাংলাদেশীদের কাছে সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয়।
আপনি যদি কোনো একটি নির্দ্দিষ্ট কাজে দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলেই ফাইভার এ আপনি আপনার সেবা প্রদান করতে পারবেন।
ওয়েবসাইট : https://www.fiverr.com
কিভাবে ....
ফাইভার এ মোট আটটি ক্যাটেগরি রয়েছে এবং প্রতিটি ক্যাটেগরির মধ্যে আবার অনেকগুলি সাব-ক্যাটেগরি রয়েছে।
ফাইভার এর প্রধান আটটি ক্যাটেগরি হচ্ছে-
১. গ্রাফিক্স এবং ডিজাইন
২. ডিজিটলি মার্কেটিং
৩. রাইটিং এবং ট্রান্সলেশন
৪. ভিডিও এবং এ্যানিমেশন
৫. মিউজিক এবং অডিও
৬. প্রোগ্রামিং এবং টেক
৭. বিজনেস
৮. ফান এবং লাইপ স্টাইল
প্রতিটি ক্যাটেগরির মধ্যে থাকা সাব-ক্যাটেগরিও অনেক। এর মধ্যে থেকে আপনার ক্যাটেগরি নির্ধারন করে আপনাকে কাজ শুরু করতে হবে।
ফাইভার এর সুবিধা
এখানে এ্যাকাউন্ট তৈরি করা অনেক সহজ, যেকোন নতুন কেউ খুব সহজেই এখানে এ্যাকাউন্ট করতে পারবে।
ফাইভার আপনার একটি স্টল বা দোকানের মত, যেখানে আপনি আপনার নির্ধারিত কিছু পণ্য বা সেবা সাজিয়ে রাখবেন, যেগুলিকে গিগ (Gig) বলা হয়।
একটি গিগ মানে, একটি কাজ যেমন: কি-ওয়ার্ড রিসার্চ।
মনে করুন আপনি কি-ওয়ার্ড রিসার্চ করতে পারেন। তাহলে আপনি এখানে আপনার এই সেবাটি বিক্রয় করতে পারেন, যার মূল্য হতে পারে (সর্বনিম্ন ৫ ডলার - সর্বোচ্চ ৯৯৫ ডলার)
এই একটি সার্ভিসকেই আপনি আবার তিনটি প্যাকেজ (বেসিক , স্ট্যার্ন্ডাড ও প্রিমিয়াম) করে সেল করতে পারবেন।
এখানে আপনি বায়ার বা ক্লায়েন্ট রিকোয়েস্টের মাধ্যমেও কাজ করতে পারবেন।
আপনি পেপাল বা পেওনিয়ার কার্ডের মাধ্যমে খুব সহজেই টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। বাংলাদেশ থেকে আপনি খুব সহজেই একটি ফ্রি পেওনিয়ার প্রি-পেইড মাষ্টার কার্ড পেতে পারেন।
আপনি যদি একটু সময় দিয়ে ফাইভারে কাজ করতে পারেন তাহলে এটিই হতে পারে আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরুর প্রথম ধাপ।
পিপল পার আওয়ার (People Per Hour - PPH)
এই মার্কেটপ্লেসটিও অনেক জনপ্রিয় নতুনদের কাছে এবং এখানে আপনি আপনার কাজের যথাযোগ্য পারিশ্রমিক লাভ করতে পারেন।
ওয়েবসাইট : https://www.peopleperhour.com
ফাইভার এর মত এখানেও কিছু ক্যাটেগরি রয়েছে, যেখান থেকে আপনি আপনার পচ্ছন্দেরটি বেছে নিতে পারেন।
পিপল পার আওয়ার এর প্রধান আটটি ক্যাটেগরি হচ্ছে-
১. ডিজাইন
২. রাইটিং এবং ট্রান্সলেশন
৩. ভিডিও, ফটো এবং অডিও
৪. বিজনেস সাপোর্ট
৫. সোশ্যাল মিডিয়া
৬. সেলস এবং মার্কেটিং
৭. সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং মোবাইল
৮. ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
এখানেও আপনি আপনার কাজের দক্ষতা অনুযায়ী সার্ভিস তৈরি করে রাখতে পারবেন, যাকে আওয়ারলি (Hourlie) বলে।
আপনি যতটা আকর্ষনীয় ভাবে এই সার্ভিস বা আওয়ারলি তৈরি করবেন ততটাই আপনার সেল বাড়বে। এছাড়াও, এখানে আপনি বায়ারদের রিকোয়েস্টে কাজে বিড করতে পারবেন।
একটি ভালো আওয়ারলি (Hourlie) এর বৈশিষ্ট্য
আপনার আওয়ারলি এর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ন হচ্ছে টাইটেল। আপনার টাইটেল স্পষ্ট, সহজে বোধগম্য এবং সুন্দর হতে হবে।
আপনার আওয়ারলি (Hourlie) এর বর্ননা অংশে আপনি বায়ারকে বিস্তারিত জানান যে, কেন তার এই সাভিসটি প্রয়োজন এবং এই সার্ভিস দ্বারা তিনি কিভাবে উপকৃত হবেন।
আপওয়ার্ক (Upwork)
অনেক বেশী জনপ্রিয় একটি ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশীদের জন্য এখানে কাজ করাটা কিছুটা কঠিন হয়ে গেছে।
ওয়েবসাইট : https://www.upwork.com
বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে খুব কম সংখ্যক এ্যাকাউন্টকে কাজ করতে স্বীকৃতি দিচ্ছে আপওয়ার্ক (Upwork)।
আপওয়ার্ক (Upwork) এ কাজ করার কিছু নিয়মাবলী
এখানে কাজ করার জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন ১০০% অনুমোদিত একটি প্রোফাইল। যেখানে সুন্দর করে আপনার নাম, আপনার দক্ষতা, বর্ননা, কাজের রেট এবং আপনার একটি ছবি দেয়া থাকবে।
আপওয়ার্কে আপনাকে এই প্রোফাইল নিয়ে বিভিন্ন কাজে বিড করতে হবে।
এখঅনে দুই ধরনের কাজ আপনি পাবেন, ১. আওয়ারলি এবং ২. ফিক্সড প্রাইজ।
আপনি একজন নতুন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ৬০টি কানেক্টস (Connects) পাবেন, যা দিয়ে আপনি কাজে বিড করবেন। একটি কাজের জন্য সর্বনিম্ন ১টি - সর্বোচ্চ ৫টি কানেক্টস খরচ হবে।
আপওয়ার্ক থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য আপনাকে বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংকে এ্যাকাউন্ট থাকলেই হবে। সরাসরি আপনি ঐ এ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে পারবেন।
One marketplace, millions of professional services. Browse. Buy. Done.