05/06/2026
আল্লাহ সর্বশক্তিমান। তিনি চাইলে মুহূর্তের মধ্যে সব জালিমকে ধ্বংস করতে পারেন। তাহলে কেন ফিলিস্তিনের মুসলিমরা কষ্ট পাচ্ছে? কেন অন্যায়কারীরা সময় পায়? কেন মুসলিমদের যুদ্ধ করতে হয়েছে?
এই প্রশ্নগুলো নতুন নয়। নবী-রাসূলদের যুগেও মানুষ একই প্রশ্ন করেছে।
আল্লাহ এই দুনিয়াকে পরীক্ষা হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, জান্নাত হিসেবে নয়। যদি আল্লাহ প্রত্যেক অন্যায়ের সাথে সাথে শাস্তি দিতেন, তাহলে পরীক্ষা, ধৈর্য, ত্যাগ, ঈমান, ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য প্রকাশ পেত না।
ফিরআউন বছরের পর বছর জুলুম করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়েছে। নমরুদ ক্ষমতার অহংকার করেছে, কিন্তু ইতিহাসে পরাজিত হয়েছে। আল্লাহ জালিমকে সময় দেন, ছেড়ে দেন না।
আর ইসলামের প্রতিষ্ঠা শুধু অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে নয়, মানুষের চেষ্টা, ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমেও হয়েছে। এজন্য নবীগণও দাওয়াত দিয়েছেন, কষ্ট সহ্য করেছেন এবং প্রয়োজনে যুদ্ধও করেছেন। কারণ আল্লাহ মানুষকে কর্ম করার দায়িত্ব দিয়েছেন।
ফিলিস্তিনের প্রতিটি শহীদ, প্রতিটি নির্যাতিত মানুষ আল্লাহর দৃষ্টির বাইরে নয়। আমরা হয়তো পুরো হিকমাহ বুঝতে পারি না, কিন্তু একজন মুমিন বিশ্বাস করে যে আল্লাহ কখনো অন্যায় করেন না এবং জালিমের শেষ পরিণতি সফলতা নয়।
“আর তোমরা কখনো মনে করো না যে, আল্লাহ জালিমদের কর্ম সম্পর্কে উদাসীন। তিনি শুধু তাদেরকে সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দেন যেদিন তাদের দৃষ্টি স্থির হয়ে যাবে।”
(সূরা ইবরাহীম ১৪:৪২)
ইতিহাস সাক্ষী, জুলুম চিরস্থায়ী নয়। সত্যকে দেরি করা যায়, পরাজিত করা যায় না।