24/05/2026
বেশ কিছুদিন ধরে আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে 'মব ভায়োলেন্স' বা দলবদ্ধ হিংস্রতা চালানো হচ্ছে। কখনও প্রাতিষ্ঠানিক কূটকৌশল, কখনও বা উগ্রবাদী ও স্বার্থান্বেষী মহলের নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বেছে বেছে সনাতনী শিক্ষকদের টার্গেট করা হচ্ছে—যা সমগ্র সনাতন সমাজের মনে গভীর ক্ষত ও চরম নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে।
আজ শুধু সনাতন ধর্মের অনুসারী হওয়ার কারণে প্রতিটি পেশার মানুষ এক অদৃশ্য আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। শিক্ষকদের সাধারণ কোনো বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে, কিংবা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক অভিযোগ তুলে অনলাইন ও অফলাইনে ভয়াবহ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই নোংরা সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেউ পদ-পদবি দখল করছে, কেউ ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে ফায়দা লুটছে, আবার কেউ সনাতনী সম্প্রদায়ের ওপর মানসিক ও আর্থিক নিপীড়ন চালাচ্ছে।
একটি সভ্য সমাজে বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আইন ও বিচার ব্যবস্থা কখনও একপাক্ষিক হতে পারে না।
যারা সমাজে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে শিক্ষক সমাজ তথা পুরো সনাতনী সম্প্রদায়কে প্রতিনিয়ত হেনস্তা ও নির্যাতন করে যাচ্ছে, তাদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এই মব ভায়োলেন্স বা বিচারবহির্ভূত তাণ্ডব এখনই বন্ধ করতে হবে।
মনে রাখবেন:
আজ যারা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব দর্শক হয়ে আছেন, তারা প্রকারান্তরে অপরাধকেই প্রশ্রয় দিচ্ছেন। অন্যায়ের এই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলা না হলে, আজ যা সনাতনীদের সাথে ঘটছে, আগামীকাল তা দেশের অন্য যেকোনো নিরীহ নাগরিকের সাথেও ঘটবে। আজ আমরা আক্রান্ত, কাল হয়তো আপনারাই হবেন এই অন্ধ আক্রোশের পরবর্তী শিকার।
© Garuda Cyber Shield