04/01/2020
রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে কিছু তথ্য -
1. আমাদের জন্য পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কেন প্রয়োজন ?
প্রথমত শক্তির উৎসের ক্ষেত্রে সবসময় বৈচিত্র্য থাকা প্রয়োজন, ধরেন আমাদের দেশের সবগুলা পাওয়ার প্লান্ট যদি তেল, গ্যাস এর হয়,এখন বিশ্ব বাজারে যদি হঠাত করে তেল এর দাম বেড়ে যায় অথবা অদুর ভবিষ্যৎ এ যদি গ্যাস শেষ হয়ে যায় সেক্ষেত্রে কি করবেন!?
আর ১৬ কোটি জনসংখ্যার এ দেশে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এর জন্য দরকার বেইজ লোড দেয়ার মত প্লান্ট , সেক্ষেত্রে কয়লা, নিউক্লিয়ার ছাড়া এদেশে আর কোন বিকল্প কিছু নাই কারন এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় পাওয়ার সাপ্লাইয়ার আশুগঞ্জ যেখানে তাদের ৮ টা ইউনিট মিলে ১৬২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, সেখানে আমাদের রুপপুর এর ২ ইউনিট এ ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
এছাড়াও নিউক্লিয়ার ইন্ডাস্ট্রিতে আমরা অলরেডি প্রায় 65 বছর পিছিয়ে আছি , যেখানে পাকিস্তান 47 বছর আগে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার সামর্থ্য রাখে, সেখানে কি আমাদের এতদিন পরও এটি করার মত সামর্থ্য নাই!?
2. এই পাওয়ার প্লান্ট এর জন্য কি রুপপুর এর পরিবেশ এর তাপমাত্রা বাড়বে?
সাধারণত বৈষ্যিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারন গ্রীন হাউজ গ্যাস যেহেতু নিউক্লিয়ার একটি ক্লিন সোর্স অফ এনার্জি অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ফুয়েল বার্ন হয়ে কোন কার্বনডাই অক্সাইড নিসরন হয় না তাই তাপমাত্রা বৃদ্ধির কোন সম্ভাবনা নাই
3. পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কি পারমানবিক বোম এর মত , যা কিনা যেকোন সময় বিস্ফোরিত হবে?
সাধারণত পারমাণবিক বোমার বিষ্ফোরন হয় স্বতস্ফুর্ত চেইন রিয়েকশন এর মাধ্যমে, আর এর জন্য প্রয়োজন হয় ইউরেনিয়াম-235 এর ক্রিটিকাল ভর যার কারনে পারমানবিক বোমায় ইউরেনিয়াম-235 এর পরিমান থাকে 95% এর মত. অন্যদিকে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টে U-235 এর পরিমান থাকে মাত্র 4-5% .তাই এটি বোমার মত বিস্ফারণ হওয়ার সম্ভাবনা নাই.
4. পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রেডিয়েশন এর পরিমান কেমন হবে আর এতে কর্মকর্তা,সাধারন জনগন অথবা পরিবেশের কি কোন ক্ষতি হবে?
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টে কর্মকর্তাদের এক বছরে সর্বোচ্চ অনুমোদিত রেডিয়েশন লিমিট থাকবে 20mSv এবং সাধারন জনগনের জন্য তা 1 mSv.
যেখানে আমরা একবার এভডোমেন সিটি স্ক্যান করলেই রেডিয়েশন ডোস নেই প্রায় 20mSv এর মত যা কিনা আমাদের এক বছরের সর্বোচ্চ লিমিট এর সমান.
আর পরিবেশের ক্ষতির কথা বললে, ইরানের রামসার নামক শহরের পানিতে রেডিয়াম -226 থাকায় প্রতি বছরে অই অঞ্চলে প্রাকৃতিক রেডিয়েশন এর পরিমান থাকে সর্বোচ্চ 260mSv, যা আমাদের সর্বোচ্চ লিমিটের 13 গুন বেশি.
5. প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় এই রিয়েক্টর কতটুকু সেইফ?
রুপপুর নিউক্লিয়ার প্লান্টে ব্যাবহার করা হয়েছে vver-1200 generation 3+ রিয়েক্টর , যা এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সর্বাধুনিক সেইফ রিয়েক্টর হিসেবে ধরা হয়.
যা ভুমিকম্প সহনশীলতার মাত্রা রিকটার স্কেলে 8.00 এবং সর্বোচ্চ ফ্লাড লেভেল 19 মিটার পর্যন্ত রিএক্টর স্বাভাবিকভাবেই চলতে পারবে, যেখানে গত 100 বছরের হিসাবে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ভুমিকম্প হয় 1918 সালে শ্রীমংলে যার মাত্রা ছিল 7.1 এবং 1998 সালের বন্যায় রুপপুরের সর্বোচ্চ ফ্লাড লেভেল ছিল 14.32 মিটার. এবং ভৌগলিকভাবে রুপপুরকে সবচেয়ে নিম্ন দূর্যোগপ্রবন এলাকা হিসেবে ধরা হয়.
6. রুপপুরে চেরোনিবিল এর মত কোন ঘটনা হওয়ার কি কোন সম্ভাবনা আছে আর হইলেই বা কি হবে?
এখন পর্যন্ত vver যত রিয়েক্টর আছে সবগুলাই সম্পুর্ন এক্সিডেন্ট ফ্রি অপারেশনে টানা 47 বছর ধরে চলতেছে এবং ফেডারাল ল' NP-001-15 অনুসারে এর এক্সিডেন্ট হওয়ার পসিবিলিটি 0.000001 raector year অর্থাৎ এক্সিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে কিন্তু এরপরও যদি কোন কারনে কোন দুর্ঘটনা হয়ে যায়, তার জন্য রিয়েক্টর এর নিচে রয়েছে নিউক্লিয়ার ইন্ডাস্ট্রির সর্বাধুনিক প্রযুক্তি "কোর ক্যাচার" যা কিনা নিউক্লিয়ার ফুয়েল কোন কারনে গলে গেলে, তাকে সম্পুর্ন বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে , যার ফলে পরিবেশে কোন প্রকার রেডিয়েশন ছড়াবে না.
7. প্লান্ট চলাকালীন সময়ে রেডিওএক্টিভ ওয়াস্ট ম্যানেজমেন্ট কিভাবে হবে?
সাধারনত ব্যাবহার করা ফুয়েলকে বলা হয় স্পেন্ট ফুয়েল,এই স্পেন্ট ফুয়েল অতিমাত্রায় রেডিওএক্টিভ থাকে, এছাড়াও এর থেকে প্রতিনিয়ত decay heat বের হতে থাকে তাই অইসময় কোন প্রকার স্পেন্ট ফুয়েল ট্রান্সপোর্টেশন সম্ভব নয়. যার ফলে স্পেন্ট ফুয়েল কে দশ বছর স্পেন্ট ফুয়েল পুলে রাখা হবে এরপর 10 বছর পর যখন এর রেডিওএক্টিভিটির পরিমান হবে 10^7 Gbq, তখন একে বাংলাদশ থেকে প্রি-প্রসেস করে রাশিয়া ট্রান্সপোর্টেশন করা হবে, তারা এটিকে Vetrification করে সাইবেরিয়ার ভুমধ্যসাগরে পতিত করবে, প্লান্ট নির্মানের সাথে এটিও রাশিয়ার সাথে সম্পূর্ণ রুপে চুক্তিবদ্ধ.
Finally, Today is Nuclear day of Rooppur nuclear power plant.
So, Not to be seized with fear! NPP will be our level of confidence. Hopefully this will lead us in the elite society of the world scoring as the 32nd nation.
Md Masudur Rahman
Engineer
Nuclear Power Plant Company Bangladesh Limited (NPCBL)