03/06/2026
শিরোনামঃ খবরওয়ালা
প্রসঙ্গঃ মিথ্যা মায়াজালে কসাইখানা।
আমাদের চারপাশে তাকালে লেবাস, বক্তব্য আর নিত্য নতুন ছদ্মবেশ ও নামে প্রদর্শিত দৃশ্য মন অটোমেটিক আকৃষ্ট হয়ে যায়। মানবের মন মস্তিষ্কের কোণে মানবিক সাইনবোর্ডের ছায়ার আড়ালে এক নগ্ন খেলা গেথে রাখে। রুদ্র লিখেছে-বেশ্যাকে তবু বিশ্বাস করা চলে
বুদ্ধিজীবীর রক্তে স্নায়ুতে সচেতন অপরাধ
বেশ্যাকে তবু বিশ্বাস করা চলে
জাতির তরুন রক্তে পুষেছে নির্বীর্যের সাপ। তাই গণতন্ত্র আর মানবতন্ত অসহায় হয়ে বাংলার জমিনে আত্নঃহত্যা করেছে। আমাদের বাঙালিহানা কিংবা বাংলাদেশী চেতনায় আমরাই দাসত্বের শিখল বেড়ি পড়ে হেটে চলছি। আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র পরিবর্তনের ত্যাগী চিন্তা ও চেতনার উপর ভর করে যে দর্শন তৈরি হয়। দিনশেষে রাতের সংবিধানের গোল টেবিলে ১৯৭১ সাল ও ২০২৪ সালের স্বাধীন রাষ্ট্রের মানবিক মর্যাদা গুলো বিক্রি হওয়ার কার্যক্রম দেখেছি।
আমাদের ত্যাগ, আমাদের রক্ত বিয়োগে যে দর্শন দাড় করিয়েছি এগুলো মিথ্যে মায়াজাল। যারা দর্শন দিয়ে পৃথিবীকে সাজিয়ে গিয়েছেন। তাদের বিপরীতে আরেক সুবিধাবাদী দর্শনের বিজয় হয়েছে। আর আমরা কৃতদাসের মতো দাসত্বের শিখলে শুধু দর্শন দিয়ে গেলাম। জগৎ বড় ভন্ড। ভন্ড কারখানায় মানুষের জন্ম হয় না। বরং মানব দেহে সুবিধাবাদী অমানুষ জন্ম গ্রহন করে।
তবও আমরা হাসি। শেখ হাসিনার ক্ষমতার দাপটে বাংলার জমিন পুড়েছিল। আজো আমরা তারেক জিয়ার নেতৃত্বে চলমান রাজনৈতিক বাংলাদেশ নিয়ে হাসি।
আমাদের এই হাসির ভিতরের গভীর ক্ষোভ এবং চরম সত্যটুকু অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আমাদের সমাজ কিংবা জগৎ বড় অদ্ভুত এক ভন্ডামির চাদরে ঢাকা।
পৃথিবীতে যাঁরা নিঃস্বার্থভাবে সুন্দর সুন্দর দর্শন দিয়ে, সাম্যবাদ বা শান্তির কথা বলে পৃথিবীকে সাজাতে চেয়েছিলেন। ইতিহাস সাক্ষী যে তাঁদের সেই দর্শনকে শেষ পর্যন্ত একদল সুবিধাবাদী নিজেদের স্বার্থে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। ক্ষমতার চেয়ারে বসে সুবিধাবাদীরা নতুন এক শোষণের দর্শন তৈরি করে, আর সাধারণ মানুষকে "দর্শনের" আফিম খাইয়ে এক অদৃশ্য দাসত্বের শিকলে বেঁধে রাখে।
আমরা মুখে যতই স্বাধীনতার কথা বলি না কেন, দিনশেষে কোনো না কোনো ব্যবস্থার দাস হয়েই থাকতে হয়। কড়া বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়ালে বুক ফুলিয়ে বলা সেইসব থিওরি বা ফিলোসফি তখন কেবলই এক মিথ্যে মায়াজাল আর প্রহসন মনে হয়। পৃথিবীতে সত্য আর উত্তরের সন্ধান করে ভন্ডামির রূপটা আরও অনেক বেশি স্পষ্ট ও নগ্ন হয়ে ধরা দিয়েছেন। আমাদের চারপাশে শুধু সাইনবোর্ড আর সাইনবোর্ড। আসলেই এগুলো কসাইখানা।
জনকঃ সৈয়দ মুন্তাছির রিমন।