13/04/2026
ইন্ডিয়াতে OLA ব্রান্ডের অনেক স্কুটার আমাদের দেশের থেকে অনেক কম দামে কেন বিক্রি করতে পারে?
ভারতীয় কোম্পানি ওলা (Ola Electric) যে দামে স্কুটার দিচ্ছে, তা অবিশ্বাস্য মনে হলেও এর পেছনে বিশাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সাপোর্ট কাজ করছে, যা বাংলাদেশে এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।
প্রথমেই একটি ছোট তথ্য সংশোধন করি:
**অনেকে মনে করে ওলার স্কুটার ৫০০কি.মি এর রেঞ্জ দেয়। ওলা-র কোনো স্কুটারই ৫০০ কিমি রেঞ্জ দেয় না।** ওলা-র ফ্ল্যাগশিপ মডেল *Ola S1 Pro Gen 2*-এর ক্লেইমড রেঞ্জ ১৮০-১৯৫ কিমি (সার্টিফাইড), আর বাস্তবে এটি প্রায় ১৩০-১৪০ কিমি চলে। তবে ইন্ডিয়াতে ওলা যে দামে (১.৩৯ লাখ রুপি) এই কোয়ালিটি দিচ্ছে, সেটি অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।
বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো কেন পিছিয়ে, তার মূল কারণগুলো নিচে সহজভাবে দেওয়া হলো:
# # # ১. উৎপাদন বনাম সংযোজন (Manufacturing vs. Assembling)
* **ইন্ডিয়া:** ওলা-র তামিলনাড়ুতে বিশাল 'গিগাফ্যাক্টরি' আছে যেখানে রোবটিক্স ব্যবহার করে হাজার হাজার স্কুটার তৈরি হয়। তারা ব্যাটারি সেল থেকে শুরু করে মোটর—সবই ভারতে বানানোর চেষ্টা করছে (PLI স্কিমের অধীনে)। বড় স্কেলে কাজ করায় তাদের খরচ কমে যায়।
* **বাংলাদেশ:** বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো মূলত 'ইমপোর্টার' বা 'অ্যাসেম্বলার'। তারা পার্টস বিদেশ থেকে কিনে আনে। তাই উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তাদের হাতে খুব কম থাকে।
# # # ২. ট্যাক্স এবং ডিউটি স্ট্রাকচার
* **ইন্ডিয়া:** ভারতে ইভি-র ওপর GST মাত্র ৫%। এছাড়া সরকার প্রতিটি গাড়িতে ভর্তুকি (FAME-II বা বর্তমানের EMPS স্কিম) দেয়, যা গাড়ির দাম অনেক কমিয়ে আনে।
* **বাংলাদেশ:** বাংলাদেশে ইভি আমদানির ওপর শুল্ক কাঠামো এখনো খুব একটা সহায়ক নয়। যন্ত্রাংশ আমদানিতে ডিউটি অনেক সময় ৬০% এর উপরে চলে যায়। ফলে ১ লাখ টাকার জিনিস দেশে আসতে আসতে ১.৫-১.৭ লাখ টাকা হয়ে যায়।
# # # ৩. লিথিয়াম ব্যাটারি প্রযুক্তি ও সরবরাহ
* ওলা নিজস্ব ব্যাটারি সেল ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট তৈরি করেছে। ইভি-র দামের ৪০-৫০% খরচই হয় ব্যাটারিতে। বাংলাদেশ যেহেতু ব্যাটারি সেলের জন্য ১০০% বিদেশের ওপর নির্ভরশীল, তাই গ্লোবাল মার্কেটে দাম বাড়লে আমাদের এখানেও বেড়ে যায়।
# # # ৪. বাজারের আকার (Market Scale)
ইন্ডিয়ার বিশাল মার্কেট ডিমান্ডের কারণে কোম্পানিগুলো কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে সাহস পায়। বাংলাদেশে চার্জিং স্টেশনের অভাব এবং ইভি পলিসি পরিষ্কার না হওয়ায় বড় বিনিয়োগ আসছে না। ফলে 'লো-ভলিউম' ব্যবসায় দাম কমানো কঠিন হয়ে পড়ে।
# # # সংক্ষেপে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার কারণ:
| বিষয় | ইন্ডিয়া (যেমন: ওলা) | বাংলাদেশ (আকিজ, রানার বা ইমপোর্টার) |
|---|---|---|
| **সরকারি সুবিধা** | বিশাল ক্যাশব্যাক/ভর্তুকি ও কম ট্যাক্স | উচ্চ আমদানি শুল্ক ও কম পলিসি সাপোর্ট |
| **উৎপাদন** | নিজস্ব ডিজাইন ও লোকাল পার্টস | পার্টস আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা |
| **টেকনোলজি** | স্মার্ট ফিচার ও নিজস্ব ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট | মূলত চাইনিজ প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা |
**সারকথা:** বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো শুধু দামের দিক দিয়ে এগিয়ে কারণ তাদের প্রতিটি নাট-বোল্ট উচ্চ শুল্ক দিয়ে বিদেশ থেকে আনতে হয়। যতক্ষণ না বাংলাদেশে **লোকাল ব্যাটারি ম্যানুফ্যাকচারিং** শুরু হবে এবং সরকার **ট্যাক্স বেনিফিট** দেবে, ততক্ষণ ওলা-র মতো দামে প্রিমিয়াম ইভি পাওয়া আমাদের জন্য কঠিন হবে।